কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতিতে ভাঙ্গন!

সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য এ এম এম শামসুর রহমানের নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে রবিবার সাধারণ শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ব্যানারে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিতে ভাঙ্গন তৈরী হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ লিখিত বক্তব্যে জানান, সোমবার দুপুরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আন্দোলনরত শিক্ষকদের হেয় প্রতিপন্ন এবং অপমান করায় তারা শিক্ষক সমিতিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বেরিয়ে এসেছে।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষক সঞ্জয় কুমার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও দায়িত্ববান উপাচার্য অধ্যাপক এ এম এন শামসুর রহমানের দুর্নীতির প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শিক্ষক সমিতির কোন জোরালো ভূমিকা দেখা যায়নি।

আন্দোলনকারী আরেক শিক্ষক রেজুয়ান শুভ্র জানান, শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তথা বাংলাদেশের শিক্ষক সমিতিকে অপমান করেছে বিধায় আমরা শিক্ষক সমিতি থেকে বের হয়ে এসেছি ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম জানান, কোন শিক্ষককে সম্মানহানি করা হয়নি। এটা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন সম্মানিত শিক্ষকগণের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে তা নিয়ে দু-একজন যদি ‘শিক্ষক সমিতি’কে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন তা নিতান্ত অযৌক্তিক এবং হাস্যকর। শিক্ষক সমিতি এধরনের কার্যকলাপে নিন্দাজ্ঞাপন করছে

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিকে শিক্ষকদের একাংশ অযোগ্য ও অবাঞ্চিত ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতির সদস্য সহকারী অধ্যাপক শাহজাদা আহসান হাবীব জানান,  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপি দেয়া হয়েছে সেখানে উল্লেখ আছে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষক সমিতি’ সকল শিক্ষকদের একটি সংগঠন। সুষ্ঠ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সকলের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনের মাধ্যমে এটি গঠিত হয়’।

এদিকে আগামীকাল (মঙ্গলবার)  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাককানইবি ব্যানারে আন্দোলনের  উদ্যোগ নিয়েছেন জাককানইবি শিক্ষক সমিতি।